২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ হাজার ৩৫৯ জন

বিগত ২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে মোট ৭ হাজার ৫৮৪টি। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৩৫৯ জন। এ ছাড়া এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৭৬ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৯৬২ জন, যা মোট নিহতের ১৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। শিশু নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৮ জন, যা ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫ সালের সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ। ৯টি জাতীয় দৈনিক, সাতটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়েছে। ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৭১ জন, যা মোট নিহতের ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৫৬৪ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৯৪১ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে দেশে ১৩২টি নৌ দুর্ঘটনায় ১৪৯ জন নিহত, ১২৩ জন আহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে ৫১৯টি রেলপথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭৮ জন এবং আহত হয়েছেন ১৫২ জন।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র

যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৭১ জন (৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ)। বাসযাত্রী নিহত ৪১৬ জন (৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ), পণ্যবাহী যানবাহনের আরোহী ৪৮০ জন (৬ দশমিক ৫২ শতাংশ), প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের আরোহী ২৩৫ জন (৩ দশমিক ১৯ শতাংশ)।

এ ছাড়া থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা, মিশুক) যাত্রী নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৬ জন (১৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ)। স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের (নসিমন, করিমন, ভটভটি, আলমসাধু, মাহিন্দ্র, টমটম) যাত্রী নিহত হয়েছেন ৪৮৯ জন (৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ)। বাইসাইকেল ও প্যাডেল রিকশার আরোহী নিহত হয়েছেন ১২৮ জন (১ দশমিক ৭৩ শতাংশ)।

দুর্ঘটনাস্থলের সড়কের ধরন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার ৩৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনার হার ৩৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গ্রামীণ সড়কে ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং শহরের সড়কে ১৩ দশমিক ০৮ শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। অন্যান্য স্থানে দুর্ঘটনার হার শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় কবলিত যানবাহন

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে পণ্যবাহী যানবাহন ছিল ২৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং মোটরসাইকেল ২৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। থ্রি-হুইলারের অংশ ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেট কার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের হার ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ, প্যাডেল রিকশা ১ দশমিক ৪২ শতাংশ, বাইসাইকেল শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

দুর্ঘটনার শিকার যানবাহনের সংখ্যা

২০২৫ সালে দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত মোট যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৩৮৯টি। এর মধ্যে বাস ১ হাজার ৭১৯টি, পণ্যবাহী যানবাহন ৩ হাজার ৪১৪টি, মোটরসাইকেল ৩ হাজার ১৫৬টি, থ্রি-হুইলার ২ হাজার ১২৯টি এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ ৬০০টি। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৭৬৩টি, প্যাডেল রিকশা ১৭৭টি, বাইসাইকেল ১১০টি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ছিল ৩২১টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *