বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও সংবাদমাধ্যমের প্রধান ব্যক্তিরা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে হোটেল শেরাটনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে নানা পরামর্শের কথা উঠে আসে।
তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে করমর্দন এবং কুশল বিনিময় করেন। কক্ষের একেবারে পেছনের সারিতে আলোকচিত্র সাংবাদিকদের কাছে গিয়ে তাদের সাথে হাত মেলান তিনি।
সাংবাদিকরা মাননীয় বলে সম্বোধন করলে তারেক রহমানকে মাইক নিয়ে বলেন, ‘আমার নামের আগে মাননীয় বলবেন না।’
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ‘১৭ বছর টানা বিদেশে থাকাটা খুব কঠিন বিষয়। যখন আপনি নিশ্চিত করে জানেন যে, চাইলেও আপনি এক দিনের জন্য বা দুদিনের জন্য দেশে ফিরতে পারবেন না। আমার কিছু দিন বিদেশে থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি জানতাম যে, আমি চাইলে দেশে যেতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘আপনি আসতে পেরেছেন। স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন, একটা পরিকল্পনার কথা বলেছেন, পরিকল্পনা আছে আপনার। আমি শুধু বলতে চাই যে, আপনার সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হোক, পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন হোক। আপনাকে শুভেচ্ছা জানাই, অভিনন্দন জানাই, ভালো থাকুন।’
সবাইকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানিয়ে যায় যায় দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, ‘আমার বয়স ৯১। বলতে পারেন আমি কিছু হাসিনা রোগে আক্রান্ত হয়েছি। এই কারণে বয়স ৯১ তো… অনেক কিছু কথা মনে পড়ে যায়। অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সময় সংক্ষিপ্ত আমি সেটা বলবো না।’
তিনি বলেন, ‘আমি শুধু তারেক রহমানকে জানিয়ে রাখতে চাই, তিনি নিজেও জানেন না যে তিনি কী? সক্রেটিস একটা কথা বলেছিলেন, “নো দাই সেলফ…” আজ জীবনের শেষ প্রান্তে আমি বুঝতে পারি এই ছোটবেলায় আমি পড়েছিলাম এই বাক্যটি নো দাই সেলফ… এত বড় মূল্যবান কথা কি? জানা দরকার, জানলে পরে অনেক কিছু করা সম্ভব জীবিত অবস্থাতেই। প্রেসিডেন্ট জিয়া রহমান জানতেন না যে তিনি কত পপুলার, তার জানাজাতে অবিস্মরণীয় লোক হয়েছিল তখন। আর তারপর আমরা দেখলাম ম্যাডাম খালেদা জিয়া তিনি যখন মহাপ্রয়াণ বললেন তখন সারা বাংলাদেশি হয়ে গেল জানাজার একটা ক্ষেত্র। এটাও একটা অভূতপূর্ব ঘটনা।’
শফিক রেহমান বলেন, ‘তারেক জানেন না তিনি আসলেই কত জনপ্রিয়। আমি যখন জেলে গেলাম, তখন জেল বন্দিরা সবাই তার কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করত। সবচেয়ে বড় কথা পুলিশরাই জিজ্ঞাসা করত, যারা আমার রক্ষক তারাই জিজ্ঞাসা করত উনি কেমন জানি? আমি বলতাম, উনি তো লন্ডনে বহু দূরে আছেন, আর আমি আপনাদের এখানে আছি। এতটাই শ্রদ্ধা করেন তারেক রহমানকে।’
তিনি বলেন, ‘এখন দেখছি তারেক রহমান সময় ম্যানটেইন করছে। আমি লক্ষ্য করছি, তার ওপর কিছু বিলাতি প্রভাব পড়েছে। আমি বলব, তিনি একজন পরিবর্তিত মানুষ হয়ে গেছেন। এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন এবং কারাগারে স্বজনদের সাক্ষাৎ বঞ্চিত করা, সুচিকিৎসা না দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের নীতির ক্ষোভ প্রকাশ করেন শফিক রেহমান।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে যাতে অর্থ লুটপাট বন্ধ করা, বাজারে দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং পুলিশ বাহিনীকে নৈতিকতা শিক্ষা দিয়ে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলার বিষয়টি তারেক রহমান ক্ষমতায় গেলে নজর রাখবেন এমন প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।
‘আমরা গণতন্ত্র চাই, স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই’
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আপনি চেয়ারম্যান হলেন আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, আপনাদের শুভকামনা, সুস্বাস্থ্য কামনা এবং আপনার সর্বস্তরের সাফল্য কামনা করছি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্যে আগামীর চ্যালেঞ্জেসগুলো কী? আমি মনে করি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্লাইমেট চেঞ্জ। এটা নিয়ে আমরা কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর অত আলোচনা করছি না। ক্লাইমেট চেঞ্জের যে কী ইমপ্যাক্ট হবে, এটা অলরেডি আমরা কিন্তু কোস্টাল বেল্টে দেখতে পাচ্ছি। সো আমার অনুরোধ থাকবে, ক্লাইমেট চেঞ্জ ইউর ভেরি ইম্পর্টেন্ট প্রায়রিটি।’
মাহফুজ আনাম আরও বলেন, ‘আরেকটা হচ্ছে আমাদের পানি সম্পদ। আমরা পৃথিবীর অন্যতম কিন্তু মানে সম্পদশীল দেশ পানির ক্ষেত্রে। কিন্তু আমরা সমস্ত নদীকে দূষণ করছি। ইট ইজ কোয়াট ইনক্রিডেবল যে, আমরা কিভাবে নদী দূষণের দিকে যাচ্ছি এবং কিছুই করছি না। আমাদের আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার এখন প্রায় ৮০/৯০ নিচে চলে গেছে… উই হ্যাভ টু এড্রেস ইট।’
‘তারেক রহমান এখন আমূল পরিবর্তন হয়েছেন’
মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমি এক তারেক রহমানকে চিনতাম ২৩ বছর আগে… আমি প্রথম ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতে প্রথম সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম….। আমি এখন দেখি ২৩ বছর বাদে তারেক রহমান বদলে গেছেন, আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে তার মধ্যে। অনেকে এটা বিশ্বাস করেন না। আমি কাছ থেকে জানি, দেখি শুনেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা লিখতে চাই, আমরা বলতে চাই। মিডিয়া ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর অনেকটাই স্বাধীন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। নিয়ন্ত্রিত এই কারণে বলছি, মব ভায়োলেন্সের কারণে আমরা অনেকটাই সাহসী হতে পারছি না। আমাদের হাত পা বাধা হয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘মিডিয়া অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, সংবাদপত্র অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়—তখন কিন্তু আমার ভাবতে কষ্ট লাগে যে, আমরা জাহান্নামে আছি না বেহেশতে আছি। কষ্ট হয় গণতন্ত্রের কথা বলি আমরা। কিন্তু আমরা এখানে ওই দলবাজির চিন্তা করি যে, দলের মধ্যে গিয়ে চিন্তা করি যে, এটা কি আমাদের কাগজ না অন্যদের কাগজ? নাকি আমাদের বিরোধী? আমার মনে হয় তারেক রহমান সাহেব যে বদলে গেছেন বলছি এই কারণে তিনি দেখে এসেছেন, পাশ্চাত্য দুনিয়ায় কিভাবে মিডিয়া চলে। তার মধ্যে অনেক পরিবর্তন আছে।’
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘তারেক রহমানের কাছে আমাদের প্রত্যাশা। এক ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক করে তিনি কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছেন। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে সম্মিলিতভাবে করতে হবে। দলের মধ্য থেকেই যদি করার চেষ্টা করা হয় তাহলে অতীতের পথেই কিন্তু ভুল হবে এবং সেই ভুল থেকে আমরা অনেক আবার এমন একটা অবস্থায় চলে যাব যেখান থেকে আমাদের ফিরে আসা কঠিন হবে। আজকের বাংলাদেশ অস্তিত্ব সংকটে যেভাবে পড়ে যাচ্ছে, সেই সংকট থেকে, যে উগ্রবাদ আমাদেরকে গ্রাস করার চেষ্টা করছে সেই উগ্রবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে তারেক রহমান ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘সঞ্চালক জানান, আমরা একটা নিরাপত্তা বেষ্টনী এখানে তৈরি করেছিলাম। তিনি গণমাধ্যমের সাথে সেই বেষ্টনীটি উঠিয়ে দিয়েছেন কারণ তিনি এই দূরত্বে রাখতে চান না।’
‘১৭ বছরের মিডিয়ার ইতিহাস’
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতিত সাংবাদিকদের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের গাজী ভাই, মরহুম গাজী ভাই (রুহুল আমিন গাজী) তাকে ভুয়া মামলায় ক্যানসার আক্রান্ত গাজী ভাইকে ভুয়া মামলায় জেলখানায় রেখে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে, আমাদের ম্যাডামের (খালেদা জিয়ারে) মতো। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আজকে যারা মিডিয়ার স্টলে এখানে বসে আছেন, তারা কেউ গাজী ভাইয়ের জন্য টু শব্দ উচ্চারণ করেন নাই। এটাই বাস্তবতা। আসাদ ভাই (আবুল আসাদ) আমাদের মধ্যে প্রবীণতম সম্পাদক, তাকে ছাত্রলীগের গুন্ডারা অফিসে ঢুকে দাড়ি ধরে নামিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছে এবং বছরের পর বছর তিনি জেলে থেকেছেন… তিনিও অসুস্থ। তার স্ত্রী মারা গেছেন। তিনি তার স্ত্রীর পাশে থাকতে পারেন নাই। কারণ জেল থেকে বেরনোর পরেও তাকে পালিয়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছিল। আসাদ ভাইয়ের জন্যে কোনো এলিট সম্পাদক আওয়াজ তোলেন নাই। এটাই বাস্তবতা। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের বাস্তবতা ছিল ১৬ বছর।’
তিনি বলেন, ‘আমি নাম বলব, শফিক রেহমান ভাইরে, আমরা পাশাপাশি ছেলে জেলে ছিলাম। ৮০ বছর বয়সে শফিক ভাইকে মাটিতে শুয়ে থাকতে হয়েছে। টয়লেটে যেতে পারতেন না। কারণ ওই টয়লেটে কোমড ছিল না। বেশ কিছু দিন। শীতের মধ্যে মাটিতে পড়ে থাকতে হয়েছে, উনি উঠতে পারেন নাই। তারপরে যখন আমার পাশের রুমে আসলেন, উনাকে ধরে ধরে আমরা ব্রেকফাস্ট করতে, দুপুরে খেতে একসাথে যেতাম। শফিক রহমানের জন্য কেউ আপনারা দাঁড়ান নাই, এটাই ছিল ফ্যাসিবাদের চরিত্র। আরেকজনের নাম বলি, কনক সরোয়ার—তার অপরাধ ছিল তিনি আজকের যিনি প্রধান ব্যক্তি তারেক রহমান সাহেবের একটা বক্তৃতা লাইভ চালিয়েছিলেন। এই অপরাধে তাকে এক বছর প্রায় জেলে থাকতে হয়েছে…. শুধু তাই না, তার বোনকে ভুয়া ড্রাগের মামলায় মাসের পর মাস জেলে থাকতে হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের বিবেক জাগ্রত হয় নাই। এটাই বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের ইতিহাস।’
তিনি বলেন, ‘আমি তারেক রহমানকে একটা ছোট্ট পরামর্শ দিয়েই বক্তব্য শেষ করব। শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি জানতেন না মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে এবং তিনি ফিরে এসেও জানার চেষ্টা করেন নাই মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগের লোকজন যা বলেছে এবং ভারতীয় পক্ষ যা বলেছে সেটাকেই তিনি ধরে নিয়েছিলেন….এটাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছিল। এইজন্যই তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।’
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘তারেক রহমান, আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। আপনি জানেন না, এখানে কী হয়েছে। আপনার বিশিষ্ট লোকজন আপনাকে যা বলেছে, এটাই আপনি শুনেছেন। এখন যারা মিডিয়ার নতুন বন্ধুরা আপনাকে যেটা বলছে, সেটাই আপনি শুনছেন এবং সেটাই আপনি মনে করছেন এটাই বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস। এটা না ১৭ বছরের ইতিহাস না। সেই ইতিহাস আমি বর্ণনা করব, ভবিষ্যতে যদি আপনি এরকম কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং সেই অনুষ্ঠানে আমাকে ১৫ মিনিট সময় দেন।’
‘সাংবাদিকতার পরিবেশ চাই’
নিউএজের সম্পাদক এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি নুরুল কবীর বলেন, ‘আমরা যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে সমাজ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাই অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পাশাপাশি একটা গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি বিশ্বাস করে মানুষকে বলেন যে, তারা গণতান্ত্রিক রূপান্তর চান… তাহলে একই সঙ্গে তার দায় দাঁড়ায় সেই গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সহযোগিতা করবার জন্যই গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা।’
তিনি বলেন, ‘সেগুলো কী কী পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার আবহাওয়া নষ্ট হয়, সেগুলো আলোচনার জন্য তো সেমিনার করা যেতে পারে। শুধু এইটুকু শুভেচ্ছা জানিয়ে রাখব, যে এটা আপনারা যেন সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীনের সময় বহু সংবাদকর্মীর ওপর নানাভাবে মামলা-হামলা অন্যায় হয়েছে। সেই সব মামলার আইনগতভাবে লড়াই করবার পরিবেশটা উপস্থিত ছিল না। আমি বলব, এই মুহূর্তে গত রেজিমের সঙ্গে যারা সমর্থক ছিলেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, জেলে আছেন। শেখ হাসিনার আমলের ওইগুলো যদি অন্যায় হয়ে থাকে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও যদি ন্যায়ভাবে, আইনগতভাবে তাদেরকে মামলা লড়ার সুযোগ না দেওয়া যদি অন্যায় হয়ে থাকে, সেই অন্যায়কে আরেকটা ন্যায় দিয়ে আমরা বিগত অন্যায়টাকে আরও প্রতিষ্ঠিত দেখাতে পারি।’
নুরুল কবীর বলেন, ‘এই সময়ে যারা জেলের মধ্যে আছেন, ভিন্নমতের জন্য, সে টাকা যা করেছেন সেইটা আমরা বিশ্বাস করি না বলেই আমরা এখানে মুক্ত আছি। কিন্তু তাদের যা আইনসঙ্গত অধিকার আছে, অভিযুক্ত হিসেবেই যে আইনসঙ্গত অধিকার আছে, সেইগুলো নিশ্চিত করবার জন্যে সংবাদপত্রের পক্ষ থেকে, আমাদের এডিটরস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে আমরা বিভিন্ন সময় সরকারকে বলেছি… সরকার বলেছে তারা সেটা দেখবেন। কিন্তু তাদের আইনগত অধিকারগুলো নিশ্চিত করবার কথা দিয়ে তারা রাখেননি। আমি আপনাকে (তারেক রহমান) এই জন্য শুভেচ্ছা জানাবার চেষ্টা করব যে, আপনার যতটুকু প্রভাব এই মুহূর্তে আছে, সেই প্রভাব কাটিয়ে যদি বিগত সরকারের আমলের যে অন্যায়গুলো হয়েছে, সে অন্যায়ের রিপিটেশন যদি আমরা বন্ধ করতে না পারি, তাহলে রাষ্ট্রের তরফ থেকে সংবাদপত্র এবং মিডিয়াকর্মীদের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ কোনোটা তার উদাহরণ আমরা তৈরি করতে পারব না। ফলে এই ব্যাপারে যদি আপনার কোনো প্রভাব থাকে, আপনি ক্ষমতায় যাবার জন্য অপেক্ষা না করে এটার ব্যবস্থা করতে পারার তৌফিক আপনার হোক, সেই শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।’
‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই’
কালের কন্ঠের সম্পাদক জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে, গোয়েন্দা শাসিত মিডিয়া, আমরা দেখেছি যে একটা রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রেও গোয়েন্দাদের ডিক্টেশন আমাদেরকে বাধ্য হয়ে হজম করতে হয়েছে। সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। আমরা সত্যিকারের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই, যেটা শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার সময় আমরা পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি তখন ছাত্র ছিলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ছিলাম দৈনিক বাংলার। সেই দৈনিক বাংলা প্রতিহিংসার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যেটা সরকারি পত্রিকা ছিল না ট্রাস্টের পত্রিকা ছিল। যেটা সরকারি বিজ্ঞাপনে চলত, রাজস্ব বাজেটে চলতো না। আমরা দৈনিক বাংলাকে ফেরত চাই আগের অবস্থায় দৈনিক বাংলা চাই।’
হাসান হাফিজ বলেন, ‘আজকে এখানে আপনি মিলিত হয়েছেন। এটা ভালো। ঘন ঘন ইন্টারেকশন হলে আপনারা উপকৃত হবেন, আমরা উপকত হব। আমরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নই। সবাই আমরা দেশপ্রেমিক, সবাই আমরা দেশের ভালো চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্যে সাংঘর্ষিক নয়, আমরা পরিপূরকম, আমরা ওয়াচডগ হিসেবে বস্তুনিষ্ঠভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আপনাদের ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিতে চাই।’
অনুষ্ঠানে দৈনিক ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দিন, যুগাস্তরের আবদুল হাই শিকদার, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস, ঢাকা স্টিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, দেশ রুপান্তরের রেজাউল করীম লাভলু, শাহনাজ বেগম পলি, নিউজ টোয়েন্টিফোরের মারুফা রহমান, ইউএনবির আবদুর রহমান জাহাঙ্গীর, ইত্তেফাকের সাইদুর রহমান, নাগরিক টিভির এরফানুল হক নাহিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
মাঠ পর্যায়ের রিপোর্টারও মাঠে কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ার বিভিন্ন বিষয়গুলো তুলে ধরলে তারও সংক্ষিপ্ত জবাব দেন তারেক।