রিয়ালের কোচ হওয়ার গুঞ্জনে মুখ খুললেন ক্লপ

জাভি আলোনসোর বিদায়ের পর রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম উঠে আসা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। ২০২৬ সালের শুরুতেই ডাগআউটে আরেক দফা পরিবর্তন এনেছে লা লিগার জায়ান্ট ক্লাবটি। তবে সাবেক লিভারপুল কোচ ক্লপ জানিয়ে দিয়েছেন, এই শূন্য পদটির সঙ্গে নিজেকে তিনি কোনোভাবেই জড়াতে চান না। আলোনসোকে এত দ্রুত বরখাস্ত করায় তিনি ‘সত্যিই বিস্মিত’ হয়েছেন বলেও জানান।

মাত্র আট মাস দায়িত্ব পালনের পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ছাড়তে হয় আলোনসোকে। রিয়ালের কোচ হিসেবে ৩৪ ম্যাচে তিনি ২৪টি জয় পেয়েছিলেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার শেষ ম্যাচটি ছিল স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে পরাজয়।

বিশ্বকাপজয়ী এই কোচের সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকা খেলোয়াড়দের মতবিরোধ হয়েছিল বলে খবর পাওয়া যায়, যা শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান দুর্বল করে তোলে। আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন ভিত্তিতে প্রথম দলের দায়িত্ব পেয়েছেন আলভারো আরবেলোয়া।

আলোনসোর বিদায়ের পরই রিয়ালের পরবর্তী কোচ কে হবেন-এ নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সেই তালিকায় যোগ হয়েছে ক্লপের নামও। ২০২৪ সালে লিভারপুল ছাড়ার পর কোচিং থেকে সরে দাঁড়িয়ে তিনি বর্তমানে রেড বুলের ‘হেড অব গ্লোবাল সকার’ হিসেবে কাজ করছেন।

৫৮ বছর বয়সী ক্লপ আবারও কোচিংয়ে ফেরার কোনো ইঙ্গিত দেননি, বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদের মতো চাপপূর্ণ দায়িত্বে। আলোনসোর আকস্মিক বিদায়ের খবরে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই গুঞ্জন কার্যত উড়িয়ে দেন।

ঘটনার পরপরই সারভুস টিভি অন-এ বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করার সময় ক্লপকে জিজ্ঞেস করা হয়, তার ফোনে কি রিয়াল মাদ্রিদ থেকে কল এসেছে? জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে ফোন এসেছে-তবে মাদ্রিদ থেকে নয়। কিছু মানুষ মনে করেছে, এ বিষয়ে আমাকে সরাসরি জানানো দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমত, এটা আবারও প্রমাণ করে যে এই মুহূর্তে সেখানে সবকিছু ঠিকঠাক নেই। গত দুই বছরে লেভারকুজেনে জাবি আলোনসো যে অসাধারণ কোচিং প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে, তাতে তার বয়স ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সেটা বলাই যায়। তেমন একজন কোচকে ছয় মাসের মধ্যেই মাদ্রিদ ছাড়তে বাধ্য করা হলে অনেক কিছুই স্পষ্ট হয়। একদিকে বোঝা যায়, এখন আর কাউকে সময় দেওয়া হয় না। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের প্রত্যাশা যে কতটা বিশাল, সেটাও পরিষ্কার।’

ক্লপ বলেন, ‘গতকাল বার্সেলোনার কাছে একটি কাপ ফাইনাল হারার পর আবেগের বশে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক কিছু বলে দেয়। এমন গুঞ্জন আগেও আমরা শুনছিলাম। আর আপনার প্রশ্ন যদি সেদিকেই গিয়ে থাকে, তাহলে পরিষ্কার করে বলি-এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই এবং এতে আমার ভেতরে কোনো প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়নি।’

সবশেষে তিনি যোগ করেন, ‘হ্যাঁ, আমি অবাক হয়েছিলাম-সত্যিই অবাক। এরপর কয়েকজন আমাকে মেসেজ করেছে, আর আমি নানা ধরনের ইমোজি দিয়ে উত্তর দিয়েছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *