রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার নীলিকে (১৬) গলা কেটে হত্যা মামলায় আসামি মিলন হোসেন দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
আজ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক (রাজু) মিলনকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। পরে বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড তকে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত রবিবার মিলনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এর আগে গত শনিবার বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’র বাসা থেকে নীলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সেখানকার রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার সময় তার বাবা-মা ও ভাই গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে ছিলেন। বড় বোন শোভা আক্তার দুপুরে জিম করতে বাসার বাইরে যান। সেই সুযোগে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
এ ঘটনায় শনিবার রাতেই অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন বাবা মো. সজিব। মামলার বিবরণীতে বলা হয়, বাসার সামনে শাহজালাল হোটেল নামে একটি খাবারের হোটেল আছে নিলির বাবার। কর্মচারী দিয়ে সজিব এবং তার ছেলে শাকিল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। শোভা ও নিলিকে বাসায় রেখে স্ত্রী-ছেলেকে নিয়ে গত ৭ জানুয়ারি জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য হবিগঞ্জ যান সজিব।
ঘটনার দিন অর্থাৎ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে শোভা জিম সেন্টারে যান। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসায় ফিরে এসে রান্না ঘরের মেঝেতে নিলিকে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকার আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পুলিশকে খবর দিলে তারা লাশ উদ্ধার করে।
‘পূর্বশত্রুতার’ জেরে অজ্ঞাতনামা এক বা একাধিক আসামি নিলিকে খুন করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেন সজিব।