অব্যক্ত মায়ার প্রতিচ্ছবি

অব্যক্ত মায়ার প্রতিচ্ছবি

অনামিকা রিতা

 

জানি না কেনো এত মায়া!

তার চলে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তেও বুঝিনি—

তার অবর্তমানে এমন বেদনা

হৃদয়ের এত গভীরে এসে ছুঁয়ে যাবে।

যখন শুনলাম সে নেই,

চিরতরে চলে গেছে এই দেশ থেকে—

তখন মনে হল,

কাচের মত ভেঙে খানখান হয়ে গেল আমার সমস্ত সত্তা।

আশ্চর্য লাগে আজও,

কখন যে এতটা শ্রদ্ধা,

ভালোবাসা আর নিঃস্বার্থ মায়া জমে গিয়েছিল তার প্রতি—

তা তো কখনও বুঝে উঠিনি।

না, আমি তার আত্মীয় নই,

ছিলাম না তার প্রতিবেশী,

তার ছায়াতলে বসেও কোনো সুবিধা পাইনি কখনও।

তবুও সেদিন—

কেন জানি না,

নিরবে, অশ্রুসিক্ত চোখে তাকে বিদায় জানিয়েছিলাম।

শুধু চোখের জলে থেমে থাকেনি অনুভব,

গতকাল পর্যন্ত—

প্রতিটি রাত কেটেছে নিদ্রাহীন;

তার অনুপস্থিতি ছুঁয়ে গেছে স্বপ্ন ও জাগরণের সীমারেখা।

আমি তো এক নগণ্য,

অতিশয় ক্ষুদ্র এক সাধারণ মানুষ মাত্র।

তবুও অনুভবের বিস্তৃতি আমার আকাশ ছোঁয়া—

কত রাত, একাগ্র ধ্যানের মতো কাটিয়েছি

শুধু এক ঝলক চাঁদের মতো তাকে দেখার আশায়—

যে চাঁদ লুকানো থাকে মেঘের আড়ালে।

শত চেষ্টাতেও

একটিবারের জন্য সেই ছায়াও ধরা দেয়নি এই ভালোবাসায় পিপাসু চোখে।

তবুও আজ—

এই শ্রাবণ সন্ধ্যার ঠিক আগে,

মেঘে ঢাকা সূর্যের গোধূলী আলোয়,

এক ঝলক বিজলীর আলোয়

তোমাকে দেখলাম!

সেই মুহূর্তে—

উত্তাল সাগরের ঢেউ তোলা বাতাসে

তোমার ফিরে আসার কোনো এক ধ্বনি যেন বাজল কানে।

তবুও দ্বিধা—

এই ধ্বনি কি আসলেই আশার বন্যা?

নাকি হৃদয়ের সমস্ত কিছুকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া

এক বিধ্বংসী জলচ্ছ্বাস?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *