বৃষ্টি মানে তুমি
মাহাবুবা লাকি
ঘর থেকে তাড়াহুড়ো করেই বের হলো নিরুপমা। কিছু বই কিনতে হবে পল্টন ব্রীজের নিচ থেকে।বই নিয়ে তাকে যেতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় এক বন্ধুর কাছে।
মেঘলা আকাশ বৃষ্টির দিন ইচ্ছে করছিল না ঘর থেকে বের হতে। কিন্তু নোটের কিছু কোটেশন এর কাজে বেরিয়েছে ।নিরুপমার একলাচলা ক্ষুদ্র জীবনে কাজ খুবই অপ্রতুল ব্যাপার। কখনো কোন কাজ ধরাবাঁধা ভাবে তার করা হয় না। আর যদিও-বা কোন কাজ শুরু করে, সেই কাজেও থাকবে অবশ্যম্ভাবী বিপদের গন্ধ। এবারও তাই হলো, ঘর থেকে বেরিয়েই ভয়ংকর বিপদে পড়ে যায়।হঠাৎ একপশলা বৃষ্টি এসে জনজীবন থমকে দিলো। এ যেনো তরী আছে ঘাটে, নদীর এপার -ওপার জনশূন্য, কোন লোকের দেখা নাই। ঠিক তেমনি রাস্তার
এপার -ওপার শূন্য কোথাও একটা মানুষ বা রিকশার দেখা নাই।তবে যে পারে আমি দাঁড়িয়ে সেই পাশ ব্যতীত অন্য দিকে অটোরিকশা দুই একটা দেখা যাচ্ছে। কেবল আমি যেদিকটায় যাবো সেদিকটায় অটোরিকশা যাওয়া ট্রাফিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।বৃষ্টির ভেতর দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন পুলিশ।প্রত্যেকের হাতে মোটা লাঠি। তাদের কাজ হলো, অটোরিকশার পেলে সেগুলোর লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া। খেটে খাওয়া দিন মজুরিদের জন্য এটা বড়ই বেদনাদায়ক পরিস্থিতি। তাদের অসহায়াত্বের কথা ভেবে কষ্টটা বুকে নিয়ে কয়েকটি অটোরিকশার লাইসেন্স বাতিলের ব্যাপারটা কেনো ঘটছে জানার চেষ্টা করলাম।
এই পৃথিবীতে প্রত্যেক ক্রিয়ার পেছনেই কারণ থাকে। ‘বিপদ যে আমার জন্য অবধারিত’, এই ক্রিয়া ব্যতীত পৃথিবীতে কারণহীন কোন ক্রিয়া আছে বলে নিরুপমার মনে হয় নি। কিন্তু ক্রিয়ার পেছনে যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে পুলিশ জাতিকে তাদের এই লাইসেন্স বাতিল মিশনের একজেক্ট কারণ শুধরানোর সাহস জোগাতে পারলাম না। উদাস মনে এদিক-ওদিক তাকাতেই এক যুবককে দেখতে পাই । তিনি টি শার্ট কোর্ট বুট পরে স্মার্ট দাঁড়িয়ে আছেন। কাঁধে কালো রঙের অফিস ব্যাগ। আশেপাশে আতঙ্কিত জনতার এমন ছুটোছুটির মাঝে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি খুব আগ্রহ নিয়ে পুলিশী কর্মকান্ড দেখছেন। এগিয়ে গিয়ে লোকটির কাছে নিরুপমা জানতে চাইলো কি হয়েছে,
জানেন কিছু?সব রাস্তায় তো গাড়ি-রিকশা চলছে। কোর্টের সামনে দিয়ে অটোরকশা যেতে না দেওয়ার
কারণ কি?যুবকটি প্রশ্ন শুনে এমন একটা ভাব করলেন যেনো আমি তার হৃদপিণ্ড চেয়ে বসেছি। অথবা এক বোতল বিষ হাতে নিয়ে বলেছি, ও গো স্মার্টম্যান? এই গরলটুকু পান করে আমায় ধন্য করুন।তার উদ্ভট চাহনিতে মনে মনে শ’খানেক বার মুখ ভেঙিয়ে কেটে পড়লাম। মিনিট খানেক দাঁড়িয়ে থেকে অলস মস্তিষ্কটা খাটাতেই বোঝা গেলো মস্তিষ্ক এখনও সচল আছে, সম্পূর্ণ অকেজো হয়নি। একটা অটোরিকশা ডেকে
‘বললাম,মামা বাংলামটর ঘুরে টি এস সি তে যাওয়া যাবে নাকি?’
মামা জানালেন, যাবে। তার কথায় খুব একটা ভরসা পাওয়া গেলো না। কতটুকু যাবে সে নিয়েও মনে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ঝুলিয়ে অটোতে উঠে বসলাম।খানিক বাদে যুবকটি এগিয়ে এলেন। ঠিক আমার মতো করেই বললেন, বাংলামটর হয়ে যাওয়া যাবে নাকি? পুলিশের লাঠির বাড়ি আর যাত্রীদের হুড়োহুড়িতে অটো মামা সন্তোষজনক কোন উত্তর দিতে পারলেন না। তার মুখটা অসহায় ও চোখ দুটিকরুন আকুতি নিয়ে চেয়ে থাকলো! বড় মায়া হলো। বিধাতা সৃষ্টির সময় আমার বুকে এক সমুদ্র মায়া ঢেলে দিয়েছিলেন সেই মায়ার বলেই মায়ায় মায়ায় আমার ভেতরটা ভেসে গেলো তার জন্য । আর এভাবে জীবনে ঝামেলাগুলো আমার পিছু নেয়।তারপর নিজেকে কষ্ট দিয়ে সেই ভুলের মাশুল গুনতে হয়।
আগ বাড়িয়ে বললাম,হা যাবে। তবে যে হারে মিছিল
আর বেরিকেড সে কারণে শাহাবাগে নেমে হেঁটে ও যেতে হতে পারে।যুবকটি অবাক বিস্ময়ে আমার দিকে
চেয়ে রইলো। হাতের বইয়ের দিকে ইশারা করে
‘বললেন, নিশ্চয়ই বাংলার ছাত্রী?’
মাথা ঝাঁকালাম। হঠাৎ আমাকে ‘উড়ে উড়ে মহাশূন্যে চলে যাওয়ার’ মত আশ্চর্য করে দিয়ে অটোতে উঠে বসলেন। বললেন, আমি শাহাবাগ চিনি না।আপনার ভরসায় উঠলাম।দয়া করে একটু নামিয়ে দেবেন।আর যদি ঠিকানা না পাই তবে পিছু পিছু আপনার বাড়িতে চলে যাবো, বাংলার ছাত্রী।’ হা হা হা ——
আমি বিস্মিত চোখে চেয়ে রইলাম। ব্যাটায় বলে কী? এই পৃথিবীতে আমার জন্ম হয়েছে ঘরকুনো ব্যাঙের মতো। এই গোটা ঢাকা শহরে নিজের ঘর, ঘরের বারান্দা, গলির মোড়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া তাবৎ শহরের সকল গলিই আমার কাছে মঙ্গল গ্রহের মতো। কোথাও গেলে ওই ক্লাসমেটদের সাথে যাওয়া হয়।উনি অন্য কোথাও যদি যেতে চান, কি করবো তখন। যুবকটি আমার বই এর ব্যাগের সাথে মিলেমিশে সত্যিকারের সিন্দাবাদের ভূতের মত ঘাড়ে চেপে বসলেন। তবে বাঁকা চোখে চেয়ে দুই একবার অনুভব করলাম সঙ্গ পেয়ে তাকে খুবই আনন্দিত মনে হচ্ছে। অটো চলছে। রাস্তায় খুব ভীড়। এখানে-ওখানে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষদের হুল্লোড়। দল বেঁধে বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট পরে ছেলেমেয়েরা ঘুরছে।তিনি গোটা ব্যাপারটা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছেন।মনে হয় বাংলাদেশে তিনি নতুন এসেছেন।এদিকে টুপটুপ করে বৃষ্টি পড়ছে। অসহ্য এক পরিস্থিতি। বৃষ্টির পানিতে হাত ভিজিয়ে বললেন,
‘ শ্রদ্ধেয় বাংলার ছাত্রী? এরা কারা?’ কারণ লোকটি যে বয়সে দেশ ছেড়েছিলেন, সেই সময় আধুনিকতার
এমন জোয়ার ছিলো না।তার প্রশ্নের ধরন শুনে মনে হলো, যুবকটি আমার বাপের বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। আর এরা সব আমার বাপের বাড়ির লোক। এদের প্রত্যেককের নাম চালচলন মুখস্থ রাখাই এনো আমার কর্তব্য। আমি চোখ গরম করে তাকালাম। আসেপাশের মানুষের আগ্রহী চোখের নিচ দিয়ে চাপা কন্ঠে বললাম,স্যার,এরা সবাই আমার বাপেররবাড়ির
লোকজন। তিনি বিস্মিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, আরে বাহ!তাই নাকি?উত্তর দিলাম আজ্ঞ্যে হা। কিছুদূর আসার পর আবারও শুরু হলো প্যাচাল। হতাশ কন্ঠে বললেন,বাংলার ছাত্রী , আর কতক্ষণ
লাগবে?বিরক্ত হয়ে বল্লাম, দেখুন এই জ্যামের রাস্তায় আমি কখনো আসিনি।নাম শুনেছি শুধু এ পথ দিয়েও
যাওয়া যায়।অটোওয়ালা আমায় অন্য গলিতে নিয়ে গেলেও একবিন্দু ধরতে পারবো না। এটা চেপে গিয়ে সবজান্তার মতো বললাম,এই তো আর কিছুক্ষণ পর
নেমে যাবো। মগবাজারের কাছে আসতেই অস্থির হয়ে উঠলেন যুবকটি। অধৈর্য হয়ে বললেন, ‘আমরা কখন নামবো?’ বাচ্চাদের মত ন্যাকা সাজছে মনে হলো।
আমি নিজেই বিভ্রান্ত । মনোযোগ দিয়ে রাস্তার পাশের নামগুলো পড়ার চেষ্টা করছি। ভাবছি, কোথায় নামা যায়? শেরাটনের মোড় বা বারডেম হাসপাতালের সামনে নামা যেতে পারে। কিন্তু যুবকটির একের পর এক প্রশ্নবাণে অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বললাম,
‘ Can you please shut up,?’
‘আর অটোওয়ালা মামাকে বললাম আরএগুবেন না?’
উনি জবাব দিলেন না।সামনে মিছিল। কিছুদূর এসে লোহার খুঁটির মতো দাঁড়িয়ে গেলেন। ততক্ষনে আকাশ আর এক দফা গম্ভীর হয়ে আসছে।যে কোন সময় বৃষ্টি
নামতে পারে। ভদ্রভাবে বললাম, এখানেই বিদায় প্রিয় এবার নিজের রাস্তা মাপুন। হঠাৎ চারপাশে সবকিছুই অন্ধকার লাগছে।কালো মেঘে ঘিরে ফেললো ঢাকা শহরটাকে। কিছু দেখতে পারছি না। তথাপিও নিজের গন্তব্যে যাবার চেষ্টা করলাম। কিন্তু রাস্তা মাপতে গিয়ে আরেক বিপদে পড়তে হলো। ঝুপ করে বৃষ্টি পড়া শুরু হলো। ট্রাফিক মোডে এক বিন্দু দাঁড়ানোর জায়গা নেই। যে যেখানে পারছে দাঁড়িয়ে গেছে।বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এদিক-ওদিক থেকে মিছিল আসছে।সাংবাদিক পুলিশের অবস্থা করুন। গাড়ি নড়ছেই না বললেই চলে। যা আছে তাতেও ভীড়। শ’খানেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে গাড়ির অপেক্ষায়। একটা অটোর দেখা মিলতেই হৈ-হৈ ছুটোছুটি। ধাক্কাধাক্কি। ভয়াবহ অবস্থা। এই ভয়াবহ অবস্থার মাঝেই বুক ভর্তি আশা নিয়ে কোন রকম দাঁড়িয়ে রইলাম ।আমি বিরক্ত হলেও, যুবকটি খুব
আগ্রহী হয়ে এসব দেখতে লাগলেন। গাড়ি পাওয়া নিয়ে তার কোন দুঃশ্চিন্তা নেই। উৎসাহ নিয়ে বললেন, আপনাদের শহরে কী কোন উৎসব হচ্ছে? অথবা কোন দাবি দাওয়ার আন্দোলন? এতো মানুষ কেনো?দেখুন সাংবাদিকও এসেছেন!’
জীবনে কোন কিছুর খোঁজ না রাখা এই আমাকে জিজ্ঞেস করছে,What is this? বললাম,সাংবাদিক মিছিল না দেখে কেমন করে যাবো তাই ভাবুন।উনি যতটুকু কথা বলছেন তার বাংলা বলাটা অস্পষ্ট। কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বললাম,কেমন পুরুষ আপনি একটা গাড়ি ম্যানেজ করতে পারছেন না!’ হঠাৎ একটা
ফাঁকা অটো দেখে মুহূর্তের মধ্যেই হুড়োহুড়ি পড়ে গেলো আশেপাশে। মানুষের ধাক্কাধাক্কিতে দুজন প্রায় ছিটকে পড়ার জোগাড়। কোথায় উনি অটোতে উঠবেন, উল্টো পা চেপে ধরে লাফিয়ে উঠলেন,উফ!আমার পা!’
যুবকটি বেশ চোট পেয়েছেন পায়ে। ফর্সা মুখ রক্তিম হয়ে উঠেছে। তথাপিও বিরক্ত চোখে তাকাই। বৃষ্টি থেমেছে কিন্তু অসহ্য গরম লাগছে।ভারী ব্যাগ আর গরমে মস্তিষ্ক তখন ফুটতে থাকা চায়ের পানির মতো । টগবগ করছে।সে অসহায় কণ্ঠেআবার ও বললেন,
‘ ব্যথা পেয়েছি খুব।’
একেবারেই শিশুদের মতো ব্যবহার। চোখ জোড়ায় উপচে পড়া অভিমান।ব্যথা পেয়েছে। যত ঢং! ব্যথা পেয়েছেন তো কী করবো? বাচ্চা ছেলে নাকি কোলে নিয়ে আদর করবো? রাগে, দুঃখে, মেজাজের উপর গোটা কয়েক ট্রাম যাওয়ার পর একটি খালি গাড়ি পাওয়া গেলো। গাড়িটা দেখা মাত্র যুবকের হাত টেনে আশেপাশের মানুষগুলোকে ধাক্কা দিয়ে, এক রকম যুদ্ধ জয় করার মতো গাড়িতে গিয়ে উঠলাম।যুবকটি গোটা ব্যাপারটাই খুব আনন্দ পেলেন। পায়ের ব্যথা ভুলে শাহাবাগের অবস্থা দেখে মুখ মলিন করে বললেন।কি আশ্চর্য! বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে চারদিকে জনসমুদ্রের ঢেউ। কোথাও পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত নেই। গাড়ির ভাড়া মিটিয়ে ভাবছি গ্রন্থাগারের সামনে দিয়ে যাওয়া যায় কি না।এই জনসমুদ্র পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানো একেবারে দুঃসহ আমার জন্য। তার উপর এত পুরুষ মানুষের ভীড়ে আমি একলা মেয়ে! কী করবো, দ্বিধা-দ্বন্দ ভুলে সাহসী পায়ে ভীড়ের মাঝে ঢুকে পড়লাম। পুরুষদের ভীড়ে একলা একটি মেয়েকে দেখে আশেপাশের পুরুষ জনতা উৎসুক চোখে তাকাতে লাগলো। কারো চোখে মুখে ফুটে উঠলো অশালীন ইশারা। কারো চোখে বিস্ময়। আমি দ’মবন্ধ করে কিছুদূর এগিয়ে যেতেই টের পেলাম কেউ একজন আমার পাশে পাশে হাঁটছে। চোখ ফিরিয়ে তাকিয়ে অবাক ও বিস্মিত হলাম।লোকটিকে চুপচাপ আমার পাশে হাঁটতে দেখে বললাম,
‘ আপনি এদিকে কেনো? কোথায় যাবেন?’
বললেন,
‘ আপনি কোথায় যাচ্ছেন?’
‘ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে।’
‘ ওহ্, তাহলে আমিও যাই ওখানে।’
আরে, আপনি কেনো যাবেন,পিছু ছাড়ুন তো।
‘ আমি বন্ধুদের সাথে নোটের ব্যাপারে কথা বলতে যাচ্ছি।’আপনি নোটের ব্যাপারে কথা বলবেন, আমি দূরে দাঁড়িয়ে দেখবো।’ ভীড়ের মাঝেই থমকে দাঁড়ালাম। ধমক দিয়ে বললাম, ‘এসব কি হচ্ছে? আপনি বিপদে পড়েছিলেন, সাহায্য করেছি। এখন কেনো পিছু নিয়েছেন? কী চাইছেন বলুন তো ?’
যুবকটি শান্তস্বরে বললেন, ‘আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয় দেখবো। কী হবে একটু দেখতে গেলে?’ রাগে নিজের উদারতার জন্য শাস্তি পেলাম মনে হলো। কিন্তু আমার উপেক্ষা বুঝতে পেরে ও সে নিষ্পাপ চোখে চেয়ে রইলো। এখানে শান্তিতে ধমক দেওয়ারও উপায় নেই। বেয়াদব কিছু ছেলে পারলে গায়ের উপর এসে পড়ছে। আমি দ্রুত পা ফেলতে থাকি। যুবকটিকে দেখি আমাকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ না করেও হাতটা প্রসারিত করে আগলে রাখলেন অন্য পুরুষের স্পর্শ থেকে। অপরিচিত একটি পুরুষ থেকে এতটুকু সম্মান ও আগলে রাখা দেখে আবেগে আমার নরম হৃদয়ে অদ্ভুত এক দোলা দিয়ে গেলো। বৃষ্টির ছাটে মন উজাড় উড়াল দিলো দিগন্তের ভেলায়। এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে সুখি মেঘবালিকা মনে হলো। মনে হলো অচিনপুরের রাজকন্যাকে
ভীড় ঠেলে মহলে নিয়ে চলেছেন রাজা নিজেই।এমন ভাবনাতে নিজেই হেসে ফেললাম। গেটের সামনে এসে গেট বন্ধ দেখে মর্মাহত হলাম। এত কষ্ট করে এসে শেষমেশ বন্ধ? যুবকটি অবশ্য শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো না। অশান্ত শিশুর মত গেটের উপর দিয়ে উঁকিঝুঁকি দিতে লাগলন। ধমক দিয়ে বললাম,বাচ্চাদের মত উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন কেনো? শান্ত হয়ে দাঁড়ান।’
ততক্ষণে তিনি গায়ের কোর্ট খুলে ফেলেছেন। কালো শার্টের আস্তিন গুটিয়ে নিয়েছে কনুই পর্যন্ত। এক হাতের ভাঁজে কালো কোর্টটা ভাঁজ করে রাখা। সুন্দর ফিটফাট চেহারায় নির্মল হাসি টেনে বললেন,বাংলার ছাত্রী, চলুন আশেপাশের কোন রেস্টুরেন্টে যাই। বৃষ্টি ও ছাত্রছাত্রীদের মিছিলের কারণে পরিবেশ থমথমে। কিছু খেয়ে নেই পরে আপনার বন্ধুর সাথে বসে কাজ করবেন।
আচ্ছা আপনার মাথায় কি কোন কাজ করে না, না কি। গেইট বন্ধ তো কি।’ আমার তো কাজটি করতেই হবে।
‘ দেখুন মনে হয় ।এখনো সব খোলা আছে ভেতরে। আন্দোলন মিছিল দেখে দরজা লাগিয়ে রেখেছে বোধহয়।ক্যাম্পসের ভেতরে সবাই আছে সব থেকে বড় কথা এই আগন্তুক কে? কি তার পরিচয়? তিনি কেনো আমার পিছু নিয়েছেন? এই যুবকের অতি উৎসাহ সন্দেহ করার মতো বিষয়। আমি কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থেকে বিধাতার নাম করে উনার সাথে খেতে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। রেস্ট্রুরেন্ট এর ভেতরে গিয়ে বুঝলাম, বিষয়টা সত্য বৃষ্টি ও আন্দোলনের জন্যই দরজা লাগিয়ে দিয়েছে সবাই।তাছাড়া আমাদের দেখে দরজা খুললেন কিন্তু প্রতি টেবিলে লোকজন বসে আছে। সাধারণ চা নাস্তা খেয়ে দ্রুত বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর যাই কার্জন হলের সামনে দিয়ে।পথেই দেখা হল সমীরের সাথে। তার হাতে বইগুলো দিয়ে বললাম আর সবাই কই।বললো আছে সামনের দিকে এগোতে থাক। যুবকটি আনন্দিত মনে হলের এপাশ ওপাশে ঘুরে ঘুরে দেখছে। আমার কাজ শেষে ডাকতেই বললো,’আমরা এখানে বসবো না?’ কিছুক্ষণ বসি আপাতত বৃষ্টি নেই তো।আচ্ছা,আমরা এখানে বসতে এসেছি?’আপনার সাথে কি কথা ছিলো । আর আপনি তো টি এস সির মোড় অব্দি আসতে চেয়েছেন।
‘ আপনি এত রেগে কথা বলেন কেনো?আচ্ছা বসতে না আসলেই বুঝি বসা যাবে না?’
‘ না, বসা যাবে না। চুপচাপ চলুন নয়তো আমি চলে যাবো।’যুবকটি বাধ্য ছেলের মত আমার পিছু পিছু বেরিয়ে এলো। বের হয়েই আবার প্রশ্ন করে মস্তিষ্ক জ্বালিয়ে ফেললো প্রায়,এটা কী? জায়গাটা তো সুন্দর কিন্তু এমন বন্ধ করে ফেলা রাখা হয়েছে কেনো? পরিষ্কার করা হয় না কেনো? ওদের টি-শার্ট অমুক ভাই লেখা, এই অমুক ভাই কে? কোন পার্টির নেতা?’ আচ্ছা
সিনেমা দেখি না কতদিন, চলুন হলে গিয়ে একটা সিনেমা দেখি।আর কোনো কথা নয়, চুপ করুন!’
যুবকটি চুপ করে রইলো । কিছুক্ষণ যেতে আবারও শুরু হলো প্রশ্নবাণ। আবারও ধমক দিতেই মুখ কালো করে বললো, আপনি এমন কেনো সবসময় তিতা কথা বলেন ?ভার্সিটিতে পড়েন দেখলে মনে হয় ছোট্ট একটা মেয়ে। অথচ এত রাগ আর এত চঞ্চল। অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।অথচ তার এমন শিশুসুলভ ব্যবহারে আশ্চর্য হলাম । ভাবছি কে এই যুবক,সে আমাকে চেনে বা বুঝে শুনেই কি আমার পিছু নিয়েছে।কি চায় আমার কাছে?কথাগুলো ভাবতেই একটা মায়া হলো তার জন্য। বুঝলাম, তিনি অস্থির মানুষ। সবকিছুতে তার কৌতূহল। চারপাশে নতুন কিছু ঘটছে,যা দেখছে আর সে আশ্চর্য হচ্ছে ঠিক শিশুদের মত। ক্যাম্পাস থেকে কাজ সেরে বৃষ্টির ভেতর বাসার পথে রওনা দিলাম ।
একটু বিনয়ের সাথে বললাম, এই যে অর্বাচীন যুবক
আমার কাজ শেষ। এখন বাড়ি চলে যাবো। আপনি কোনদিকে যাবেন?’ যুবকটি এবার মুখ খুললেন। অসহায় চোখ তুলে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
‘ বুঝতে পারছি না। যে বন্ধুটির টি এস সি তে আসার কথা সে ফোন তুলছে না।’ ঢাকা শহরে আমার কেউ নেই, সবাই দেশের বাইরে থাকে।দাদাবাড়ী নাড়ির টানে এসেছি।কিন্তু আমার বন্ধু ঢাকা থাকে। তার আমন্ত্রনে এসেছি।অথচ ফোন রিসিভ করছে না।অবাক বিস্ময়ে যুবকের চোখে চোখ রেখে এগিয়ে গিয়ে বললাম,
তাহলে এখন কি করবেন?’ এই প্রথম তার জন্য
কোথায় যেনো একটু মায়া লাগছে।যুবকটি পকেট থেকে ফোন বের করে আরও কয়েকবার চেষ্টা করলো। কেন যেনো শিশুর মতো অস্থিরমনা যুবকটিকে এই অবস্থায় একা ফেলে যেতে পারলাম না। দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। এই যে স্যার ‘কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন এভাবে?’ করুন চাহনিতে চোখের দিকে চেয়ে বললো, ‘জানি না। দেখা যাক রাতে কোন হোটেলে থাকব, পরে সিরাজগঞ্জ চলে যাব।আচ্ছা
আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে! অনেকক্ষণ কিছু খাইনি। এখানে খাবার পাওয়া যাবে ?’ কী নিঃসংকোচ আত্মপ্রকাশ! কেনো তার মায়ায় পড়ছি।এরই নাম কি তাহলে মায়াচক্র। আশেপাশে তাকিয়ে বললাম, এদিকে কিছু রেস্টুরেন্ট ছিলো কিন্তু আজ বন্ধ। খেতে হলে সামনে এগোতে হবে।চলুন হেঁটেই যাই।বৃষ্টি তখনো পড়ছিলো টিপ টিপ করে।
আমরা নীলক্ষেত হয়ে এ্যালিফ্যান্ট রোডের দিকে হাঁটতে লাগলাম। এদিকটায় তেমন ভীড় নেই। কিছু ছাত্রছাত্রীরা ব্যস্ত হয়ে চলাফেরা করছে আর গাড়ি রিকশা ছুটছে ধ্বনি তুলে। পুরোটা পথ চুপচাপ হেঁটে এলাম আমরা। দুজনের কাপড় প্রায় ভিজে গেছে।কিন্তু অপরিচিত লোকের সাথে রিকশায় চড়ে যাওয়া মন সায় দিলো না।যুবকের কপাল বেয়ে বৃষ্টির পানি শার্টের উপরে পড়ছে। ক্লান্ত আঁখি মেলে চারদিক দেখছে। কিছু একটা বলতে চেয়ে ও বলার সাহস পাচ্ছে না। নিজ থেকেই বললাম,’আপনার হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে?’
যুবকটি ম্লান হাসলেন।হঠাৎ করেই খেয়াল করলাম, তার হাসিটা খুব সুন্দর।এই হাসির মাঝে কোথায় যেনো ভালোলাগার গন্ধ আবেশ ছড়িয়ে দিলো। ঠোঁ’ট দুটো প্রসারিত হতেই ভীষণ নিষ্পাপ দেখায় তার মুখ। আমার দিকে চেয়ে বললো,’আর কতদূর?’এই তো এসে গেছি।
দশ-পনেরো মিনিট হেঁটে মোড়ের একটা রেস্ট্রুরেন্ট এসে বসলাম। যুবকটি এবার আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,আপনার বাড়ি ফিরতে দেরী হয়ে যাবে না?’ হবে।’ মায়ের কাছে, বাবার কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে বৃষ্টির দিনে কোথায় সময় কাটালাম। বাসায় ফিরতে দেরি হলো কেনো? এইযে আমার এত মহান হৃদয়?আকাশের মত বিশালতা নিয়ে আপনার সাথে সারাটা দিন কাটিয়ে দিলাম।কই এই মহান হৃদয়ের এক বিন্দু প্রশংসা করলেন না তো। কে জানে, মন সেই প্রশংসাটুকু হয়তো শুনতে চাইছিলো। বাইরের রেস্ট্রুরেন্টে এভাবে খাওয়ার অভ্যাস নেই বলেই কেবল উনার জন্য খাবার অর্ডার করতে বললাম। কিন্তু লোকটি বললো এই আচরণ কি আপনাদের সভ্যতা।এটা হতে পারে না।শেষ পর্যন্ত আমাকেও খেতে হলো। খাওয়া শেষে বিল মিটিয়ে একটা আইসক্রিম কিনে দিলেন। । অবাক হলাম আইসক্রিম আমার পছন্দ উনি বুঝলেন কি করে। হাতে বই এর ব্যাগটা জোরপূর্বক নিজের হাতে নিয়ে, একটা সফট ড্রিংক কিনে, হাঁটতে হাঁটতে মুক্ত মঞ্চের সামনে গিয়ে বসলাম দুজনে। তখন গোধূলির পূর্বক্ষণ । সেখানে পরিচিত অনেক বন্ধুরা আড্ডা দিচ্ছে, একটা ছেলে দূরে বসে গিটার বাজাচ্ছে। গলা ছেড়ে গান গাইছে বাকি বন্ধুরা। একটু পরেই সন্ধ্যা নামবে অথচ আমরা নিশ্চুপ, দুজন। কারো কোনো তাড়া নেই বাড়ি ফেরার। দুজনেই নিশ্চল বসে চেয়ে আছি আকাশের দিকে চেয়ে। যুবকটি ওখানে বসেই আবারও সেই বন্ধুকে ফোন করলেন। কয়েকবারের চেষ্টায় ফোন রিসিভ হলো। লোকটি তার লোকেশন জানালো। তারপর আবারও সব নিশ্চুপ। কেউ কোন কথা খুঁজে পেলাম না। নাকি কথা বলতে ইচ্ছেই হলো না, বা কথারা হারিয়ে গেছে কে জানে?নাকি উনি চলে গেলে ভেতরে একধরনের শূন্যতা অনুভব করবো সেই অভিমানে কিছু বলতে ইচ্ছে হলো না।পাশ দিয়ে চলে যাওয়া ছেলেটির কাছ থেকে এক মুঠো বাদাম কিনে নিশ্চুপ বসে রইলেন। অনমনা হয়ে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে কিছু বাদাম হাতে দিয়ে বললেন খান।মাঠে কিছু মেয়ে খুব সুন্দর করে শাড়ি পরে এসেছে। সেদিকে চেয়েও কোন প্রশ্ন করলেন না, ওরা কেন শাড়ি পরেছে? বেগুনি রঙের শাড়িই পরতে হলো কেন? অথবা জিজ্ঞেস করলেন না, বলুন তো, আকাশের রঙ সন্ধ্যাবেলায় লাল দেখায় কেনো? আপনি কি শাড়ি পরতে পছন্দ করেন?একদম প্রশ্ন-উত্তরহীন হয়ে পাশাপাশি বসে রইলাম আমরা। গোধুলি আকাশে ধীরে ধীরে লালচে রঙ ছড়ালো। ক্লান্ত পাখিদের ঘরে ফেরার তাড়ায় যে যার ঠিকানায় ছুটছে। আমাদেরও ফেরার সময় হয়েছে। একটা গাড়ি এসে থামলো আমাদের সামনে। লোকটি গাড়িটি দেখেই উঠে দাঁড়ালেন। বললেন,ওই তো, আমার বন্ধু চলে এসেছে। আমি তো আপনাকে পৌঁছে দিতে পারবো না। চলুন, একটা রিকশা ডেকে দিই।’ আমি ব্যাগ কাঁধে উঠে দাঁড়িয়ে মৃদু হাসলাম। বললাম,তার আর দরকার হবে না। আমি নিজেই ডেকে নিতে পারবো।
‘ আপনি যান।
লোকটি আমার কথা শুনলেন না। জোর করে একটা রিকশা ডেকে আগে ভাগেই ভাড়া মিটিয়ে দিলেন। আমাকে উঠতে ইশারা করে বললেন,
‘ সাবধানে যাবেন।’
আমি হাসলাম,সে ও হাসলো। ব্যাস, আমাদের কথা ফুরিয়ে গেলো। কিন্তু তখনো বৃষ্টি ফোটা ফোটা পড়ছিল।রিকশা টুংটাং ধ্বনি তুলে যখন চলতে শুরু করেছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি ক্লান্ত চিলগুলো উড়তে উড়তে হারিয়ে গেলো বহুতল ভবনের আড়ালে। লাজুক প্রেয়সী লাজ ভেঙে আচমকা হেসে উঠলো রিনিঝিনি কণ্ঠে। ঠিক সেই সময় আমার মনে পড়লো, এই যে দুজন মানুষ একসাথে কতটা সময় পার করলাম দুজন দুজনের নামটা ও জানা হলো না। সারাটাদিন পাশাপাশি হেঁটে চললাম, অজস্র কথা বললাম,কত বকলাম,সে নীরবে সয়ে গেলো। জীবনের একটা পাতায় গাঢ় রঙের স্মৃতি হয়ে রয়ে গেলো সে আমার ভেতরে। অথচ কেউ কারো নাম জিজ্ঞেস করার সময়টুকু পাওয়া হলো না। স্মৃতির পাতায় সে হয়ে রইলো কেবল নামহীন এক বৃষ্টি মুখর মুহূর্ত ।’ অনমনা
আমার ভাবনার মাঝেই পেছন থেকে একটা গাড়ি ভীষণ গতিতে এসে রিকশার পাশাপাশি চলতে লাগলো। কোলের উপর দুমড়ানো মোচড়ানো একটা কাগজের টুকরো ছুঁড়ে দিয়ে, আমার চোখের দিকে চেয়ে মৃদু হাসলো। তারপর আবারও চলে গেলো। হারিয়ে গেলো রাস্তার মোড়ে। আমি অবাক হয়ে স্মৃতি মিশে থাকা রাস্তাটার দিকে চেয়ে রইলাম। গাড়ির শব্দটাও ধীরে ধীরে মিশে গেলো বাতাসে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় মেলে ধরলাম দুমড়ানো কাগজের টুকরোটা।
‘ তাতে লেখা ছিলো আমার কাছে বাংলাদেশ মানেই আপনার সাথে একটা বৃষ্টি মুখরদিনের ইতিহাস। ‘আর আপনি’ রয়ে গেলেন, বাংলার ছাত্রী হয়ে আমার হৃদয় পটে। যতবার মানচিত্রে এই ঢাকা শহরের নাম দেখবো, ততবার আপনার কথা মনে পড়বে। আবারও এই শহরে আসার সুযোগ হলে, আমি আবারও পথ হারাতে চাইবো। কোন এক রাস্তার মোড়ে অসহায় ম্লান মুখে দাঁড়িয়ে থাকবো, শুধুমাত্র আপনি পথ দেখিয়ে দিবেন বলে। আপনাকে আমার অনেক অনেকগুলো দিন মনে থাকবে। সেই অনেক অনেকগুলো দিন কবে শেষ হবে, আপনিই কেবল বলতে পারেন, বাংলার ছাত্রী?
নিচে আমার ফোন নাম্বারটি দেওয়া থাকলো। কোন বৃষ্টিস্নাত দিন বা রাতে যদি আমাকে মনে পড়ে ফোন দেবেন।সেদিন জানতে চাইবেন আমার নামটি।আপনি ডাকলেই ছুটে আসবো সাত ক্রোস দূর হতে।কাল আমার ফ্লাইট এগারটায়। ভালো থাকুন বাংলার ছাত্রী, ভালো থাকুক আমার মানচিত্র।
আপনাকে ধন্যবাদ দেওয়া হয়নি। ওই টুকু ঋণ আমার কাছে জমা থাকুক। সেই ঋণ প’রিশোধের বাহানায় যদি আবারও আমাদের আর একবার দেখা হয়? আমি আবারও আপনার পিছু নিবো,আবার ও ইচ্ছে করেই আপনাকে রাগাবো,আর ইচ্ছে করেই কিছু চিন না বলবো। মনে থাকবে তো ততদিন আমায়?’ আমি কিন্তু অপেক্ষায় থাকলাম একটা ফোন কলের।কাগজের ভাঁজ খুলে বুকের উপর চেপে ধরে আকাশের দিকে তাকালাম। নির্মল আকাশকে স্বাক্ষি রেখে বললাম,
‘ মনে থাকবে।’প্রিয়।আমি সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম।
