মোবাইল স্ক্যামের কয়েকটি ভয়াবহ পদ্ধতিগুলো জানলে চমকে উঠবেন

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন স্ক্যামের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল নিয়ে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। সামান্য অসতর্কতায় ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু যুক্তরাজ্যেই ৫.৭ মিলিয়ন মানুষ দশবারেরও বেশি মোবাইল স্ক্যামের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন বয়স্ক ব্যক্তিরা। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা প্রতি বছর গড়ে ২৯৫টি সন্দেহজনক কল বা বার্তা পেয়ে থাকেন।

মোবাইল স্ক্যামের প্রধান ধরণ:

ভুয়া ব্যাংক বার্তা:
প্রতারকরা নিজেকে ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে অর্থ লেনদেন, অ্যাকাউন্টে নতুন ডিভাইস যোগ বা পেমেন্ট সংক্রান্ত ভুয়া তথ্য দিয়ে গ্রাহকদের ভয় দেখায়। তারা ফাঁদে ফেলে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য বের করে নেয়।

ভুয়া ডেলিভারি বার্তা:
প্রতারকরা ডেলিভারি সেবার নাম করে বার্তা পাঠায়, যেখানে জানানো হয় পার্সেল ডেলিভারি ব্যর্থ হয়েছে। পুনরায় ডেলিভারির জন্য একটি লিঙ্কে ক্লিক করতে বলা হয়। এই লিঙ্কে গিয়ে ব্যক্তিগত বা অর্থ সংক্রান্ত তথ্য দিলে তা সরাসরি প্রতারকদের হাতে পৌঁছে যায়।

ভুয়া এনার্জি সহায়তার বার্তা:
পুরনো সরকারী সহায়তা প্রকল্পের নামে বার্তা পাঠিয়ে গ্রাহকদের ভুল বোঝানো হয়, যদিও প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

ফ্লুবট স্ক্যাম:
এ ধরনের স্ক্যামে ব্যবহারকারীকে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়, যা ফোনে ম্যালওয়্যার ইনস্টল করে।

স্পুফিং ও ভয়েস ক্লোনিং:
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচিত নম্বরের পরিচয়ে কল করা হয়। কখনও কখনও পরিচিত কণ্ঠস্বর নকল করে জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে অর্থ চাওয়া হয়।

স্ক্যাম চিনে রাখার উপায়:

  • অচেনা নম্বর বা প্রতিষ্ঠানের অপ্রত্যাশিত বার্তা সতর্কতার সঙ্গে পড়ুন।
  • বানান বা ব্যাকরণ ভুল থাকলে সন্দেহ করুন।
  • সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করবেন না।
  • ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ সংক্রান্ত তথ্য কখনোই বার্তার মাধ্যমে শেয়ার করবেন না।
  • নিজেকে রক্ষার উপায়:
  • সন্দেহজনক বার্তায় কখনো উত্তর দেবেন না।
  • অপ্রত্যাশিত ডেলিভারি বার্তা এলে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যাচাই করুন।
  • ফোনে কখনোই অর্থ স্থানান্তর করবেন না।
  • প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

প্রতারণা রিপোর্ট করার পদ্ধতি:

  • অধিকাংশ স্মার্টফোনে বার্তা অ্যাপেই স্ক্যাম রিপোর্ট করার সুবিধা রয়েছে।
  • অচেনা নম্বর ব্লক করুন ও মেসেজ ডিলিট করুন।
  • প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে বার্তার সত্যতা যাচাই করুন।
  • ইমেইলের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ করতে পারেন (বইধু, চধুচধষ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে আলাদা ইমেইল ঠিকানা থাকে)।
  • গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:

ব্যাংক কখনোই বার্তার মাধ্যমে নিচের কোনো কিছু চাইবে না:

  • ব্যাংক ডিটেইলস, পাসওয়ার্ড বা পিন
  • ব্যক্তিগত তথ্য
  • লিঙ্কে ক্লিক করে তথ্য দিতে বলা
  • অর্থ স্থানান্তর
  • অ্যাপ ডাউনলোডের অনুরোধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *