লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার থেকে অভিনয় জগতে পা রেখেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন প্রসূন আজাদ। একসময় নিয়মিত টিভি নাটকে দেখে যেত এই অভিনেত্রীকে। অভিনয় করেছেন সিনেমাতেও। সবশেষ ২০২১ সালে ‘পদ্মপুরাণ’ নামের একটি সিনেমায় দেখা গেছে। যদিও তার বছর কয়েক আগেই অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি। এবার এক ভক্তের প্রশ্নে এ বিষয়ে মুখ খুললেন প্রসূন।
বিয়ের পর এখন পুরোদস্তুর সংসারী প্রসূন। স্বামী-ছেলে নিয়েই তার ব্যস্ততা। পাশাপাশি ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছেন।
সামাজিকমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে অভিনেত্রীর কাছে এক ভক্ত জানতে চান অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কারণ। সেই প্রশ্নের জবাবে গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে প্রসূন লিখেছেন, ‘কারণ অভিনয় একটা এক্সপেনসিভ (ব্যয়বহুল) পেশা। বিনিয়োগের থেকে লাভের অনুপাত কম। তার মধ্যে এককালীন টাকা পাওয়া যায়, অথচ এটা আমার ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি। ১০-১৫ বছর আগে ১৫ দিন পরপর আমার পার্লারে খরচ ছিল ৭/৮ হাজার টাকা। শুধু কাপড় আয়রনে ৫/৬ হাজার এমনিতেই খরচ ছিল। দামী দামী কাপড়, এক্সপেনসিভ শখ এবং নিয়মিত খাওয়া আর জিমের ইস্যুও আছে।’
প্রসূন আরও জানান, তিনি মূলত আলো ঝলমলে দুনিয়ার বাইরে গিয়ে সাধারণ জীবনযাপন করতে চেয়েছিলেন। অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘আমি চাইছিলাম কিছুদিন স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবনযাপন করতে। অস্বাভাবিক জীবনযাপন করার জন্য মানসিক শক্তি হারিয়ে গিয়েছিল। তার মধ্যে এ রকম সুপারস্টারের লাইফস্টাইল বহাল রেখে পাশাপাশি একজন মধ্যবিত্ত মানুষের বউ হওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা কতটা প্রয়োজন, সেটাও ভাবাচ্ছিল।’
যোগ করে অভিনেত্রী আরও লিখেছেন, ‘তারপর তো হাউসওয়াইফ (গৃহিণী) হওয়ারও একটা শখ ছিল। এখনও আছে। এত কষ্ট করে ঘরের বাইরে কাজ করলে হাউসওয়াইফ হওয়া যায় না।’
সবশেষে প্রসূন বলেন, ‘আবার মোটা হয়ে গেলাম। সেটাও একরকম সমস্যা ছিল। লজ্জাশরম বেড়ে গেল। কেউ আমার দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে বিরক্ত লাগে তাই ভাবলাম পরে। এখন অভিনয় করার সময় নয়।’
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩০ জুলাই বন্ধু ফারহান গাফফারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ। ২০২২ সালের নভেম্বরে এই দম্পতির কোলজুড়ে এসেছে ফুটফুটে এক পুত্রসন্তান।
এর আগে, ২০১২ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারে প্রথম রানারআপ নির্বাচিত হন প্রসূন। তারপর অভিষেক করেন শোবিজে। নাটকের বাইরে তিনি ‘সর্বনাশা ইয়াবা’, ‘অচেনা হৃদয়’, ‘পদ্মপুরাণ’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।