বাংলা একাডেমির ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বাংলা একাডেমির ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী গতকাল বুধবার পালিত হয়েছে। সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি এবং এরপর বাংলা একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিকাল সাড়ে ৩টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে স্বাগত ভাষণ দেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, আজ থেকে সাত দশক আগে তদানীন্তন যুক্তফ্রন্ট সরকারের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন বাংলা একাডেমি। মূলত তা ছিল পূর্ব বাংলার জনগণের গভীর আকাক্সক্ষারই প্রতিফলন। নানা সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সত্তর বছরে বাংলা একাডেমির সঞ্চয়ও সামান্য নয়। এটা সত্য যে, বাংলা একাডেমিতে বিভিন্ন সময় কায়েমি স্বার্থবাদী শক্তি ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাদের অপপ্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছে কিন্তু যে প্রতিষ্ঠান একটি জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণ ও উদ্ঘাটনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত, তাকে চূড়ান্তভাবে পদানত করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, বাংলা একাডেমিকে বাংলা ভাষার স্বীকৃত ও প্রধান অভিভাবক বলা চলে। বিশ্বমঞ্চে বাংলা ভাষাকে উপযুক্ত মর্যাদায় উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির ভূমিকা অগ্রগণ্য। শুধু ভাষার ক্ষেত্রে নয়, সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও বাংলা একাডেমির গুরুত্ব সমান সত্য। তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় বাংলা একাডেমিকে প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার লাগসই ব্যবহারের বিষয়ে যেমন ভাবতে হবে, তেমনি বাংলা ভাষার আদিরূপের মাধুর্য উত্তর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সাধু ভাষার একটি বার্ষিক সাময়িকপত্র প্রকাশের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বক্তা বলেন, বাংলা একাডেমির গুরুত্ব ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একে আরও জনসম্পৃক্ত এবং বিশ্বমাপের গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, বাংলা একাডেমি গত সাত দশকের অভিযাত্রায় ঐতিহাসিক নানা বাস্তবতার মুখোমুখি যেমন হয়েছে- তেমনি নিজেও অনেক ইতিহাসের পটভূমি সৃষ্টি করেছে। এর প্রধান কাজ গবেষণা হলেও কালক্রমে বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক অভিপ্রায় প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বাংলা একাডেমি। আমরা মনে করি, ভবিষ্যতে বাংলা একাডেমি মানবিক বুদ্ধিদীপ্ত সমাজ নির্মাণের পাটাতন তৈরিতে সাহসী ভূমিকা পালন করে যাবে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক কাজী রুমানা আহমেদ সোমা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *