ক্রীড়া সংগঠক-বিএনপি নেতা এম এ লতিফের মৃত্যু, তারেক রহমানের শোক

বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও প্রশাসক এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এম এ লতিফ খান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার বদলের পর ক্রীড়াঙ্গনে বিভিন্ন ফেডারেশনে সংস্কারের অংশ হিসেবে এম এ লতিফ খানকে বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগপর্যন্ত সেই দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস খান জানিয়েছেন, ‘কিছুদিন আগে নওগাঁয় নিজের বাড়িতে স্যার (এম এ লতিফ খান) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বগুড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১০-১২ দিন আগে তাকে ঢাকায় আনা হয়।’

এম এ লতিফ খানের মরদেহ বর্তমানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে রাখা আছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বারিধারায় জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, এম এ লতিফ খানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রাতে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এম এ লতিফ খান বার্ধক্যজনিত কারণে আজ রাজধানীর সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এম এ লতিফ খান একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ ছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের নীতি, আদর্শ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শন এবং দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি তার ছিল অবিচল আস্থা। পেশাগত জীবনে তিনি একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ হিসেবে সকলের নিকট সম্মানিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এম এ লতিফ খানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকার্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’

এ ছাড়া এম এ লতিফ খানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বক্সিং ফেডারেশন।

প্রসঙ্গত, একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে এম এ লতিফ খানের সুখ্যাতি ছিল। ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেনাবাহিনীতে থাকার সময় বিভিন্ন বক্সিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, পরবর্তী জীবনে আন্তর্জাতিক বক্সিং রেফারি ও জাজ হিসেবে পেয়েছেন সেরার স্বীকৃতি।

এম এ লতিফ খান ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য থাকাকালে বিভিন্ন সময় তিনি গেম ডেভেলপমেন্ট, শৃঙ্খলা এবং টেন্ডার ও পারচেজ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *