তানজিদ হাসান তামিমের রেকর্ড সেঞ্চুরির পর বোলারদের দাপটে বিপিএল ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। প্রথমে ব্যাট করতে নামা রাজশাহী নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান করে। জবাবে ১৭.৫ ওভারে ১১১ রানে থামে চট্টগ্রামের ইনিংস।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বার রাজশাহীর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বিপিএলের শিরোপা জিতল। এর আগে ২০১৯ সালে রাজশাহী রয়্যালস নামে আরেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ট্রফির স্বাদ পেয়েছিল। তবে আগের দুবারের মতো এবারও ফাইনালে উঠে শিরোপা বঞ্চিত রইল চট্টগ্রামের দল। ২০১৩ ও ২০১৫ মৌসুমে চিটাগং কিংস নামে দল ফাইনালে উঠেছিল।
আজ শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলতে নামে দুদল। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় ম্যাচটি শুরু হয়।
এদিন ইতিহাসের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে বিপিএল ফাইনালে সেঞ্চুরি করলেন তানজিদ। এর আগে ২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ক্রিস গেইল ও ২০১৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি করেছিলেন।
ম্যাচের ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে তিন অঙ্কে পৌঁছেছেন তানজিদ হাসান। ৬১ বলে করেন সেঞ্চুরি! যেখানে বিপিএলে এটি তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিপিএলে সর্বোচ্চ।
ঠিক সেঞ্চুরির পরই আউট হন তানজিদ। মুকিদুলের বলে আমেরের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। ৭ ছক্কা আর ৬ চারে গড়া ৬২ বলে ১০০ রানের ইনিংস নিয়ে মাঠ ছাড়েন।
প্রথমে ব্যাট করা রাজশাহী দারুণ সূচনা পায়। ১০.২ ওভারে ৮৩ রান তোলেন দুই ওপেনার তানজিদ ও শাহিবজাদা ফারহান।
ফারহান ৩০ বলে ৩০ রান করে মুকিদুল ইসলামের বলে আউট হন। তবে অসাধারণ খেলা তানজিদ দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৩২ বলে ফের ৪৭ রানে পার্টনারশিপ গড়েন। শরিফুল ইসলামের শিকার হয়ে উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২টি চার ও একটি ছক্কায় ২৪ করেন। কিন্তু প্রায় শেষ অবধি ব্যাট করা তানজিদ দুর্দান্ত সেঞ্চুরিটি তুলে নেন। শেষ দিকে ৭ বলে ১১ রান করে আউট হন অধিনায়ক শান্ত।
চট্টগ্রাম বোলারদের মধ্যে ২টি করে উইকেট নেন মুকিদুল ও শরিফুল।
১৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। বিনুরা ফার্নান্দো, হাসান মুরাদ ও জেমস নিশামদের সামনে কেউই সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি। ওপেনার মির্জা বেগ সর্বোচ্চ ৩৬ বলে ৩৯ রান করেন। তিনি ২টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান। আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যস্ত থাকা দলটির হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ বলে ২১ রান করেন আসিফ আলী। এছাড়া আর কেউ বলার মতো স্কোর করতে পারেননি।
বিনুরা ৩ ওভারে মাত্র ৯ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট নেন। মুরাদ ৪ ওভারে ১৫ রানে ৩টি ও নিশাম ২টি উইকেট দখল করেন।