সিলেট অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এবং সার্বিক উন্ন্নয়নে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেক এর নির্বাহী কমিটির বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে রোববার তিনি লেখেন, বিশেষভাবে ধন্যবাদ অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রফেসর ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদকে, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমার অনুরোধ ও সিলেটবাসীর ন্যায্য দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেয়ার জন্
য। তিনি পাঁচটি প্রকল্পের নাম উল্লেখ করেন। যার মধ্যে রয়েছে-
১. যানজট নিরসন ও উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত) ঢাকা-সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সিলেট অংশে যানজট নিরসন, সড়ক উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প
২. সিলেট বিভাগের গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট উন্নয়ন প্রকল্প,
৩. সিলেট মহানগর এলাকায় পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প,
৪. সুনামগঞ্জ-সিলেট হাওর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প,
৫. সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ হাওর ও অববাহিকায় নদী সংরক্ষণ, ড্রেজিং ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প।
এই প্রকল্পগুলো দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। উল্লেখ্য, সিলেট উন্নয়ন-বঞ্চনা নিয়ে বিদায়ী আওয়ামীলীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের ওপর ক্ষুব্দ জালালাবাদ অঞ্চলের মানুষ। ৫ আগস্টের রক্তাক্ত পরিবর্তনের পর বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়ন-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার তারা।
বিএনপি, জামায়াতসহ দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলগুলোর প্রতিনিধিরা যে যার মতো করে চেষ্টা করছে দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে। ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদনে রাষ্ট্রদূত মুশফিক নিজের গুডঅফিস ব্যবহারে করেছেন। এ নিয়ে সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ অনেকেই দাবিগুলোর প্রশ্নে গণ-আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। অবশেষে সবার সম্মিলিত প্রয়াসে একনেকের চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে।