রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর থেকে সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। এসময় হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত; রাজপথ ছাড়বে না বলে ঘোষণা দেয় ইনকিলাব মঞ্চ। এতে শাহবাগ মোড় দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে রাত নয়টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চ ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বলা হয়, ‘ইনকিলাব মঞ্চ রাতভর শাহবাগে অবস্থান করবে। আপনিও চলে আসুন।’

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের সন্ধ্যায় অবরোধ কর্মসূচিতে বলেন, ‘খুনিদের গ্রেপ্তার করতে আমরা ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় দিয়েছিলাম। সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এখন লাগাতার আন্দোলন চলবে। সরকার ওসমান হাদির নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারে নাই। এখন খুনিদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত সরকার পদত্যাগও করতে পারবে না। পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়, খুনিদের গ্রেপ্তারই একমাত্র সমাধান। আমরা রাতভর অবস্থান করব। যতক্ষণ পর্যন্ত খুনিদের গ্রেপ্তার করা না হয়, অবরোধ কর্মসূচি চলবে।’

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া হাদির ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি বলেন, ‘সরকারের অবস্থা দেখে বোঝা যায়, বিচার নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। ওসমান হাদির বিচারের দাবি এখন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি। আমরা রাজপথে নেমেছি, বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। আমরা কিন্তু আরও কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো। রাষ্ট্রের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই বলে দিতে চাই, আমাদের বাধ্য করবেন না ক্যান্টনমেন্ট বা যমুনা ঘেরাও করতে।’

শরিফ ওসমান হাদি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ। তার হাত ধরেই ইনকিলাব মঞ্চের যাত্রা শুরু হয়। এ ছাড়া তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করার পর পালিয়ে যায় আততায়ীরা। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। গত শনিবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা হয়। এরপর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ-সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের পাশে দাফন করা হয়।

এর আগে বিকেলে আব্দুল্লাহ আল জাবের ঘোষণা দেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা সরাসরি শাহবাগে এসে জনগণের সামনে জবাবদিহি না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তিনি বলেছেন, ‘সরকারের উপদেষ্টাদের শাহবাগে এসে জনগণের মুখোমুখি হতে হবে। তারা জবাব না দেওয়া পর্যন্ত আমরা এই স্থান ত্যাগ করব না। প্রয়োজনে জীবন দিয়েও এই অবস্থান ধরে রাখা হবে।’

শহিদ ওসমান হাদির রক্তের স্মৃতিচারণ করে জাবের বলেন, ‘এই জমিন শহিদ ওসমানের রক্তে ভিজেছে। অথচ এখন একদল লোক আমাদের ওপর খবরদারি করতে চায়, আমাদের নির্দেশ দেয় কী করতে হবে আর কী হবে না। আমরা দেখছি, আপনারা ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে হাজিরা দেন, কিন্তু রাজপথের যোদ্ধাদের উপেক্ষা করছেন। আমাদের আর উপেক্ষা করা চলবে না।’

আব্দুল্লাহ আল জাবের কেবল বিচারই নয়, দেশের মানুষের আত্মমর্যাদার প্রশ্নটিও তুলে ধরে বলেন, ‘যতদিন এ দেশের সাধারণ মানুষ আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে না পারবে এবং একজন নারী হিজাব পরে স্বাধীনভাবে চলাচলের নিশ্চয়তা না পাবে, ততদিন আমরা মনে করব না প্রকৃত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই মিছিলে যোগ দিয়ে সংহতি প্রকাশ করছেন। শাহবাগ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকলেও বিক্ষোভকারীরা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *